২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সেলিম আল দিনের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী। বাংলা ভাষায় আধুনিক কালের অন্যতম নাট্যকার ও পতিত গবেষক সেলিম আল দীন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
প্রকৃত নাম: মোঃ মাইনুদ্দিন আহমেদ
জন্ম: ১৮ আগস্ট ১৯৪৯
জন্মস্থান: ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রাম
পিতা: মফিজ উদ্দিন আহমেদ
মাতা: ফিরোজা খাতুন মৃত্যু ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
সমাহিত: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে
শিক্ষা জীবন
১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর রাজনৈতিক কারণে তিনি টাঙ্গাইলের করোটিয়া শা'দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতক ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থা বিটপী'তে কপি রাইটার পদে যোগদান করেন। ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তার উদ্যোগেই ১৯৮৬ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় 'নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
সাহিত্যে অবদান
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন বাংলা নাটকে যুক্ত করে গেছেন স্বকীয়ধারা। বাংলা নাটকের শিকড়সন্ধানী এ নাট্যকার দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পরীতির প্রবর্তক। ‘আমরা নাট্য শ্রমিক, নাটক আমাদের শ্রম ও ঘামের ফসল-এ স্লোগানটিও তার লেখা । পশ্চিমা নাট্য-আঙ্গিককে অস্বীকার করে হাজার বছরের দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে তিনি কাজ করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠার পর খুঁজে বের করেন বাংলা নাটকের হাজার বছরের পুরানো শিল্পতত্ত্বকে। নাট্য ও গবেষণামূলক রচনাকর্মের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন নাটক রচনা, চলচ্চিত্রের সংলাপ রচনা ও মঞ্চনাট্যের নির্দেশক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দেন। আশির দশকের মাঝমাঝি সময় থেকে তিনি গান লেখা শুরু করেন।
• কাব্যগ্রন্থ : কবি ও তিমি (১৯৯০)
• উপন্যাস : অমৃত উপাখ্যান (২০০৫)
গীতিনৃত্যনাট্য : ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ (২০০৭)
রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক : বিপরীত তমসায় অমৃত উপাখ্যান (রেডিও পাকিস্তান ১৯৬৯), অশ্রুত গান্ধার (বিটিভি ১৯৭৫), শেকড় কাঁদে জলকণার জন্য (বিটিভি ১৯৭৭), ভাঙনের শব্দ শুনি (আয়না সিরিজ, বিটিভি ১৯৮২-৮৩), নকশীপাড়ের মানুষেরা (এনটিভি ২০০০), কিত্তনখোলা (আকাশবাণী কোলকাতা ১৯৮৫) ইত্যাদি
• উল্লেখযোগ্য নাটক : জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫), মুনতাসির (১৯৮৬), কিত্তনখোলা (১৯৮৬), হাতহদাই (১৯৯৭), ঢাকা (১৯৯১) যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩), বাসন (১৯৮৫), কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮) নিমজ্জন (২০০২), পুত্র (২০০৮), শকুন্তলা (১৯৮৬) ইত্যাদি।
• গবেষণাধর্মী নাটক : দেওয়ানা মদিনা (ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে ১৯৯২), একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৩)।
• অনুবাদ ও সম্পাদনা : অভিনয় দর্পণ (১৯৮২) ‘হরগজ' (১৯৯২)।
• পুরস্কার ও সম্মাননা : বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৪, ১৯৯৬), একুশে পদক (২০০৭) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০২৩) ইত্যাদি।
• ১৯৯৪ সালে 'চাকা' নাটক থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
• ২০০০ সালে 'কিত্তনখোলা' নাটক থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ।
• তার প্রথম রেডিও নাটক বিপরীত তমসায়' (১৯৬৯)
• ১৯৭০ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় লিব্রিয়াম (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয়।
• ২০০১ সালে 'কিত্তনখোলা' নাটক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন আবু সাইয়ীদ।
‘হরগজ' নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয় এবং এটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করে।

0 Comments