'মানব কল্যাণে বিজ্ঞান' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ রচনা করুন।
মানব কল্যাণে বিজ্ঞান
ভূমিকা: বিজ্ঞান হলো মানুষের মেধা, যুক্তি ও অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রয়াস, যার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতিকে বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ যখন আগুন জ্বালাতে বা চাকা আবিষ্কার করতে শেখে, তখন থেকেই বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। কালের পরিক্রমায় তা রূপ নেয় সভ্যতার মূল চালিকাশক্তিতে । বিজ্ঞানের স্পর্শে মানুষ আজ মহাকাশ জয় করেছে, রোগের প্রতিষেধক তৈরি করেছে, যোগাযোগ ও জ্ঞানের সীমা অতিক্রম করেছে। বলা যায়, বিজ্ঞান আজ মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে।
বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা: আদিমযুগে নিতান্ত প্রয়াজেনের তাগিদে মানুষের অবচেতনে মনে বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটেছিল। তখন থেকেই মানুষ মানবকল্যাণের লক্ষ্যে বিজ্ঞানের নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যেতে থাকে এবং সফল হয়। সেই থেকে বিজ্ঞানই মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান সম্পর্কে মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন:
Science is reality
Science is bonafide
Science is your constant friend
Science is always creative.
দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান: বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি মুহূর্তও ভাবা যায় না। আধুনিক জীবন বলতে আমরা বুঝি যে জীবন চিন্তা-চেতনায় প্রগতিশীল, নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন এবং নতুনকে গ্রহণ করতে বদ্ধপিরকর। তাইতো অন্ধকার গুহার পরিবর্তে আলাকেপিয়াসী হয়ে মানুষ বেছে নিয়েছে সুদৃশ্য নিকেতন। বিজ্ঞানের অবদান এ পরিবর্তে প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করা বা মাইক্রো ওভেনে রান্না করা খাদ্য খাচ্ছে লজ্জা নিবারণে তারে করেছে শাশ-পানি ব্যান্ডের পছন্দের পোশাক। মোটকথা বিজ্ঞানের স্পর্শে আজ আমাদের জীবন হয়েছে সহজ ও সুন্দর। বিজ্ঞানের যাত্রার প্রথম ধাপেই। দেখা যায় বিদ্যুতের বিস্ময়কর অবদান। তারপর এসেছে টেলিফোন, মুঠোফোন, টেলিভিশন, জেনারেটর, কাতল, প্যাপটপ, ক্যামেরা, লিফট ইত্যাদি। আর এভাবেই অতীতের গ্লানি চিহ্ন মুছে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় আজ আমরা আধুনিক।
যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিজ্ঞান: বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে উন্নতি এনেছে তা এককথায় অভূতপূর্ব। বিশেষ করে ইন্টারনেট এবং মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যে গতিতে উন্নয়ন করা হয়েছে তা আগে ছিল কল্পনাতীত। ইন্টারনেটকে বলা যায় বর্তমান যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যা বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন পৃথিবীর এক প্রান্ড থেকে অন্য প্রান্ডে মুহূর্তেই তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। এ প্রক্রিয়ায়, যে দূরত্ব একসময় কয়েক মাসে অতিক্রম করা হত, তা এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই জয় করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার মানবজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হয়েছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এখন মানুষ কেবলমাত্র কথা বলেই যোগাযোগ করছে না, বরং ভিডিও কল, ছবি এবং তথ্য শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে থাকলেও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে নিজের প্রিয়জনের সান্নিধ্য অনুভব করতে পারেন। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যমে দূরের মানুষও কাছে চলে আসে। এছাড়াও ই- মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং, ও নানাবিধ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব এসেছে। আজকের যুগে, মানুষ আর নিজের কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না বরং তা অতি দ্রুততার সাথে সম্পাদন করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান আমাদের কাজের গতি বাড়িয়েছে। বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে শুধুমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নয় বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, বৈশ্বিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য সবই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মাধ্যমে সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য বিজ্ঞান নিরন্দ্রর কাজ করে চলেছে, যা মানবজাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান: বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ আশীর্বাদগুলোর একটি হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি। অতীতে যেসব রোগকে অজানা ও অনিরাময়যোগ্য মনে করা হতো, আজ সেসব রোগের চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। একসময় সামান্য সংক্রমণ বা জ্বরেই মানুষ মারা যেত, এখন ক্যান্সার, হার্টের রোগ কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনও সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে।এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি এসব আধুনিক যন্ত্র মানবদেহের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সহজে শনাক্ত করতে সাহায্য করছে। অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, টিকা ও উন্নত শল্য চিকিৎসা লক্ষ লক্ষ জীবন রক্ষা করছে। স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞানের অবদান অমূল্য। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে সুস্থ, নিরাপদ ও দীর্ঘায়িত করেছে। আগামীতে আরও উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কারের মাধ্যমে এই খাতে বিজ্ঞানের অবদান অব্যাহত থাকবে এবং মানবকল্যাণের নতুন দিগন্ড উন্মোচন করবে।
কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান: কৃষি খাতে বিজ্ঞানের অবদান অসামান্য একসময় যেখানে খাদ্য উৎপাদন শুধুমাত্র প্রাকৃতিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে বর্তমানে বিজ্ঞান খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও উন্নত করে তুলেছে। বিজ্ঞান কৃষিকে নতুন ড়রে উন্নীত করেছে এবং মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, হাইব্রিড বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রভৃতি প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে বিপ্লব এসেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিনগত প্রকৌশল কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের মতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক ও বেশি ফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করে বিজ্ঞানীরা কৃষিতে বিশাল পরিবর্তন এনেছেন। বর্তমানে ড্রিপ ইরিগেশন, স্প্রিংকলার ইরিগেশন, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এর মতো আধুনিক সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে পানির অপচয় কমিয়ে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া, বিজ্ঞানের উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার যেমন- ট্রাক্টর, থ্রেশার, হারভেস্টার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি সব মিলিয়ে, কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বড় ভূমিকা পালন করছে। কৃষিতে বিজ্ঞানের অবদানই আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে।
শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিজ্ঞান: শিল্প ও কলকারখানায় বিজ্ঞানের প্রয়োগ আধুনিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। অটোমেশন, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিগুলোর ফলে শিল্প ও কারখানাগুলোতে বিপ্লব এসেছে। এসব প্রযুক্তি শ্রমিকদের কাজ সহজ করেছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, অটোমেশন এবং রোবোটিক্সের ব্যবহার শিল্পখাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগে অটোমেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে, যা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। করেছে। বিজ্ঞান শিল্প বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির চেহারাই বদলে দিয়েছে। ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। আজ অনলাইন বাণিজ্য, ডিজিটাল লেনদেন, অনলাইন ব্যাংকিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে করেছে দ্রুত ও কার্যকর। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা (যেমন: ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সিং) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞানের অবদান: বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত করেছে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও আকর্ষণীয় করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। এখন তথ্য প্রযুক্তি, অনলাইন শিক্ষা, এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। অনলাইন কোর্স ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম যেমন- কুরসেরা, উডেমি, এবং ইডেক্স শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখন তারা যেকোনো সময় এবং জায়গা থেকে শিখতে পারছে। স্মার্ট ক্লাসরুম ও ইন্টারেক্টিভ টেকনোলজি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। ডাটা প্রজেক্টর, ইন্টারেক্টিভ বোর্ড এবং ভিডিও কনফারেন্সিং টুলস শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে উন্নত করছে। শিকেরা এখন অনলাইনে ক্লাস নিতে পারছেন এবং শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রশ্ন করতে ও আলোচনা করতে পারছেন। এছাড়া, বিজ্ঞানের সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে নতুন নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া উদ্ভাবন হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়ন ওঅর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। সার্বিকভাবে, বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এটি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে।
মহাকাশ গবেষণায় বিজ্ঞান: মহাকাশ গবেষণা মানব কল্যাণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিজ্ঞান মহাকাশ গবেষণায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। মহাকাশ গবেষণা পৃথিবীর সম্পদ ও জলবায়ু পর্যবেণে সহায়ক। তবে, এই গবেষণায় বিপুল ব্যয় একটি চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। মহাকাশ গবেষণা মানব কল্যাণে টেকসই উন্নয়ন ও বিশ্বের সংযোগ বাড়িয়েছে।
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিজ্ঞান: মানব সভ্যতার বিকাশে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকা অপরিসীম। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে ঘোড়ার গাড়ি থেকে শুরু করে মানুষ আজ চড়ে বসেছে বিমানে, মেট্রোরেলে ও রকেটে ।গাড়ি, ট্রেন, বিমান ও জাহাজ মানুষকে দিয়েছে গতি ও সময়ের সাশ্রয়। হাইস্পিড রেল, ইলেকট্রিক বাস, জিপিএস, নেভিগেশন ও স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম পরিবহন ব্যবস্থাকে করেছে নিরাপদ ও দক্ষ। এখন মানুষ কয়েক ঘণ্টায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এটি বিজ্ঞানেরই সাফল্য।
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে বিজ্ঞান: বিজ্ঞান কেবল উন্নয়ন নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছে। বিজ্ঞানের এক মহৎ অবদান হল পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন নতুন এবং পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন। পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও এর সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণ, বনভূমি উজাড়, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় প্রভৃতির কারণে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো দূর করতে বিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পরিবেশ সুর ায় অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন নবীন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব জ্বালানি, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ, এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এমন কিছু পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির উদাহরণ, যা পৃথিবীকে বাসযোগ্য এবং দূষণমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর গবেষণায় বিজ্ঞান: বিজ্ঞান আবহাওয়া ও জলবায়ুর গবেষণায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ে ত্রে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা সমস্যার সমাধানে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রযুক্তি আজকাল অনেক উন্নত হয়েছে। উপগ্রহ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সহজেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের গবেষণা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর পরিবর্তন এবং এর প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে গবেষণা করছেন। বিভিন্ন ধরনের মডেল ব্যবহার করে তারা জলবায়ুর পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক বোঝার চেষ্টা করছেন এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছেন।প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস বিজ্ঞানের একটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভূমিকম্প, টর্নেডো, এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এর ফলে মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা পেয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত সমস্যা যেমন- বন্যা, খরা এবং খাদ্য সংকটের প্রতিকারের জন্য বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল উদ্ভাবন করছেন । উদাহরণস্বরূপ, নতুন কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি সাশ্রয়ী ফসল উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজ্ঞান আমাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তি শক্তিশালী করছে। এটি আমাদের সঠিক তথ্য, পূর্বাভাস, এবং সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
উপসংহার: বিজ্ঞান মানবজীবনের অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এটি মানুষকে দিয়েছে জ্ঞান, শক্তি ও স্বাধীনতা। আজ আমরা যে উন্নত সভ্যতার গর্ব করি, তার প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। তবে বিজ্ঞান তখনই আশীর্বাদ, যখন তা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। বিজ্ঞান সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এটি বিভিন্ন খাতে উন্নতি সাধন করতে এবং মানব জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি, এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম।তাই আমাদের শপথ হতে হবে বিজ্ঞান যেন ধ্বংস নয়, কল্যাণের হাতিয়ার হয়। “বিজ্ঞান মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হলেই তা প্রকৃত অর্থে বিজ্ঞান।”


0 Comments