বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
হাইকোর্ট বিভাগ লিখিত পরীক্ষা
পদের নাম: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা
তারিখ: ৩১-০১-২০২৬
সময়: ৯০ মিনিট
পূর্ণমান: ৯০
বাংলা-২৫
১। বাংলায় অনুবাদ করুন: ১০
Human rights are the basic rights that every person has from birth. They help people live with dignity, safety, and freedom. These rights protect individuals from unfair treatment by others and by the state. In a democratic society, the recognition and enforcement of human rights are essential to ensure justice, equality, and the rule of law. Without a strong system to safeguard human rights, the moral foundation of a civilized society gradually weakens.
অনুবাদ: মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। এটি মানুষকে মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার সঙ্গে বাঁচতে সাহায্য করে। এই অধিকার ব্যক্তিবিশেষকে অন্য ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের অন্যায় আচরণ থেকে রক্ষা করে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ন্যায়বিচার, সাম্য এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে মানবাধিকারের স্বীকৃতি ও প্রয়োগ অপরিহার্য। মানবাধিকা রক্ষায় শক্তিশালী ব্যবস্থা না থাকলে সভ্য সমাজের নৈতিক ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
২। ভাব-সম্প্রসারণ করুন: 'যে সহে সে রহে'। ৫
'যে সহে সে রহে
মূলভাব: মানবজীবনে টিকে থাকা এবং সাফল্য লাভের মূলে রয়েছে সহিষ্ণুতা বা ধৈর্য। প্রতিকূল পরিবেশে যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হয়।
সম্প্রসারিত ভাব: পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এখানে জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন। জীবনের এই চড়াই-উতরাইয়ে নানা বাধা- বিপত্তি, দুঃখ-কষ্ট আসবেই। যারা অল্পতেই ভেঙে পড়ে বা ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, তারা জীবনের দৌড়ে ছিটকে পড়ে। পক্ষান্তরে, যার সহনশীলতা গুণটি আছে, সে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারে। প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রবল ঝড়ে যে গাছ মাথা নোয়াতে জানে না, সেটি ভেঙে পড়ে; কিন্তু যে ঘাস বা নমনীয় গাছ ঝড় সহ্য করে নুইয়ে পড়ে, তারা ঝড়ের পরেও টিকে থাকে। মানুষের ক্ষেত্রেও এটি সত্য। সহিষ্ণু ব্যক্তি কেবল বিপদেই টিকে থাকে না, বরং ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্ব ও অবস্থানকে দৃঢ়তর করে। জগতের মহৎ ব্যক্তিরা চরম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমেই অমরত্ব লাভ করেছেন।
মন্তব্য: ধৈর্য বা সহনশীলতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি আত্মশক্তির বহিঃপ্রকাশ। টিকে থাকার লড়াইয়ে সহিষ্ণুতাই মানুষের প্রধান হাতিয়ার।
৩। ব্যাকরণ:
ক) এক কথায় প্রকাশ করুন:
উত্তর: (i) অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য অসত্য ভাষণ - উপচার।
(ii) দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ – গোধূলি।
খ) বাগধারার অর্থ লিখুন:
উত্তর: (i) অপাট করা — গোলযোগ।
(ii) ঢেউগোনা — অলস সময় কাটানো।
গ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করুন:
উত্তর: (i) কমলাক্ষ - কমলের ন্যায় অক্ষি যার = বহুব্রীহি সমাস ।
(ii) মহাকীর্তি – মহতী যে কীর্তি = কর্মধারয় সমাস।
ঘ) শুদ্ধ করে লিখুন:
(i) এ মামলায় আমি সাক্ষী দেব না;
উত্তর: (i) এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না ৷
(ii) মিলিটারি এখন সব গাড়ি থামাচ্ছে।
উত্তর: (ii) মিলিটারি এখন যাবতীয় গাড়ি থামাচ্ছে।
ঙ) সঠিক উচ্চারণ লিখুন:
উত্তর: (i) লঙ্ঘন - লংঘোন্
(ii) স্বাধীনতা – শাধিনতা।
ইংরেজি-২৫
৪. Translate from Bangla to English
সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত, যেখানে ন্যায় ও আইনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সংবিধানকে রক্ষা করা এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই এর প্রধান দায়িত্ব। এখানে বিচারকরা আইন ও বিবেকের আলোকে সত্য ও ন্যায়ের অনুসন্ধান করেন। সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা হিসেবেই সুপ্রীম কোর্টকে দেখা হয়। তাই এটি শুধু একটি আদালত নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক।
Translation: The Supreme Court is the highest court of the state, where final decisions on justice and law are made. Its primary responsibility is to protect the Constitution and ensure people's rights. Here, judges seek truth and justice in the light of law and conscience. The Supreme Court is seen as the last resort for common people. Thus, it is not merely a court, but a symbol of people's faith in justice.
৫. Suppose your name is 'Rayhan Ahmed'. After completing your graduation, you joined as a Personal Officer in the High Court Division. Write an application seeking permission for higher study to the concerned authority.
Date: January 31, 2026
To.
The Registrar General,
High Court Division,
Supreme Court of Bangladesh.
Subject: Prayer for permission to pursue higher studies.
Sir,
I, Rayhan Ahmed, have been serving as a Personal Officer in the High Court Division since 30-01-2025. I am writing to formally request your kind permission to enroll in a LLM program at Dhaka University for the upcoming academic session.
I believe that pursuing this higher degree will enhance my professional knowledge and efficiency, ultimately allowing me to serve this esteemed institution more effectively. I assure you that my studies will not hamper my official duties, as the classes are scheduled on weekends.
I, therefore, pray and hope that you would be kind enough to grant me the necessary permission to continue my higher studies.
Yours faithfully,
(Signature)
Rayhan Ahmed
Personal Officer, High Court Division.
৬.Amplify the following idea: "Experience is the teacher of all things."
Answer: Theoretical knowledge provides a foundation, but it is experience that grants true wisdom. A person may read countless books on how to swim, but they only truly learn when they enter the water. Experience involves trial and error; our mistakes teach us what to avoid, while our successes reinforce effective methods. It shapes our judgment and sharpens our instincts in ways that no classroom can. Just as a sailor learns to navigate by facing storms rather than just studying maps, human beings gain a deeper understanding of life through direct involvement. Therefore, experience remains the most practical and profound instructor in the journey of life.
৭. Grammar and Literature:
a. Write the meaning of the following idioms:
Anawer:
(i) To get along with কারো সাথে ভালো সম্পর্ক থাকা।
(ii) Pie in the sky - অসম্ভব কল্পনা।
b. Write the correct spelling of the following words:
(i) Questionair,
Anawer: Questionnaire
(ii) Reneisanse
Anawer: Renaissance
c. Put the correct form of verb in the following sentences:
(i) The doctor suggested that his patient (to stop) smoking.
Anawer: stop
(ii) Each of the students (be) responsible for his/her own work.
Anawer: is
d. Answer each of the following questions:
(i) Who said "Justice hurried justice buried"?
Anawer: William Ewart Gladstone is widely attributed with the phrase "Justice hurried is justice buried," emphasizing that haste in legal proceedings can lead to a miscarriage of justice.
(ii) Who wrote the book "Ivanhoe"?
Anawer: Sir Walter Scott wrote the classic historical novel Ivanhoe, first published in 1819.
গণিত-২০
৮। উৎপাদকে বিশ্লেষণ করুন: x² − x - (a + 1) (a + 2 )
সমাধান:
ধরি,
x²-x-(a+1)(a + 2)
= x²-x-(a+1)(a+1+1)
ধরি,
a+1=p
প্রদত্ত রাশি, x²-x-(a+1)(a + 2)
= x²-x-p(p+1)
= x² − x - p² – p
= x² – p² − x - p
= (x+p) (x – p) – 1 ( x + p)
= (x+p) (x - p - 1)
= (x + a + 1 ) ( x - a - 1- 1)
= (x + a + 1) (x - a - 2 )
উত্তর: (x + a + 1 ) (x – a – 2 ) ।
৯। একটি আয়তাকার কক্ষের ক্ষেত্রফল ১৯২ বর্গমিটার। এর দৈর্ঘ্য ৪ মিটার কমালে ও প্রস্থ ৪ মিটার বাড়ালে ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। আয়তাকার কক্ষের সমান পরিসীমাবিশিষ্ট বর্গাকার কক্ষের ক্ষেত্রফল কত হবে?
সমাধান:
মনে করি,
আয়তক্ষেত্রের আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য = x মিটার
আয়তক্ষেত্রের আয়তক্ষেত্রের প্রস্থ = y মিটার
১ম শর্তমতে, xy = ১৯২
y = ১৯২
x
২য় শর্তমতে, (x – ৪) (y + ৪) = xy
বা, xy + ৪x – ৪y – ১৬ = xy
বা, ৪x – ৪y = xy - xy + ১৬
বা, ৪(x – y) = ১৬
. x - y = ৪.........(ii)
এখন, y এর মান (ii) নং এ বাসিয়ে পাই
x - ১৯২ = ৪
x
বা, x² – ৪x – ১৯২ = 0
বা, (x – ১৬) (x + 12) = 0.
হয়, x – ১৬ = 0
বা, x = ১৬
সুতরাং x = 16
অথবা, x + 12 = 0
বা, x = −12 [ঋণাত্বক মান গ্রহণযোগ্য নয়]
সুতরাং প্রস্থ y = 12
আয়তক্ষেত্রের পরিসীমা = ২ (দৈর্ঘ্য + প্রস্থ)
= ২ (১৬ + ১২)
= ৫৬ মিটার
আবার, বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা ৪a = ৫৬
a = ১৪
আমরা জানি, বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল = (a)² = (১৪)² বর্গমিটার = ১৯৬ বর্গমিটার
উত্তর: ১৯৬ বর্গমিটার।
১০। একটি শ্রেণির প্রতিবেঞ্চে 4 জন করে ছাত্র বসালে ওটি বেঞ্চ খালি থাকে। আবার, প্রতিবেঞ্চে 3 জন করে বসলে 6 জন ছাত্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঐ শ্রেণির ছাত্র সংখ্যা কত?
সমাধান:
মনে করি,
শ্রেণিটির ছাত্র সংখ্যা = x জন
যেহেতু, প্রতিবেঞ্চে 4 জন করে ছাত্র বসালে 3 টি বেঞ্চ খালি থাকে সেহেতু ঐ শ্রেণির বেঞ্চের সংখ্যা = x / 4 + 3
আবার,
যেহেতু, প্রতিবেঞ্চে 3 জন করে বসলে 6 জন ছাত্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেহেতু ঐ শ্রেণির বেঞ্চের সংখ্যা = (x-6)/3
শর্তমতে,
x + 3 = (x-6)
4 3
বা, 4x – 24 = 3x + 36
বা, 4x – 3x = 36 + 24
: x = 60
সুতরাং শ্রেণির ছাত্র সংখ্যা = ৬০ জন।
উত্তর: ৬০ জন
১১। প্রমাণ করো যে, বৃত্তের একই চাপের ওপর দণ্ডায়মান বৃত্তস্থ কোণগুলো পরস্পর সমান।
সাধারণ নির্বচন: প্রমাণ করতে হবে যে, বৃত্তের একই চাপের ওপর দণ্ডায়মান সকল বৃত্তস্থ কোণ পরস্পর সমান।
বিশেষ নির্বচন: মনে করি, O কেন্দ্রবিশিষ্ট একটি বৃত্তে BCD চাপের ওপর দণ্ডায়মান দুটি বৃত্তস্থ কোণ হলো ∠BAD এবং ∠BED ।
প্রমাণ করতে হবে যে, ∠BAD = ∠BED I
অঙ্কন: O, B এবং O, D যোগ করি।
প্রমান: এখানে BCD চাপের ওপর দণ্ডায়মান কেন্দ্রস্থ কোণ ∠BOD এবং বৃত্তস্থ কোণ ∠BAD ।
সুতরাং, ∠BOD = 2∠BAD
এবং ∠BOD = 2∠BED [.: একই চাপের ওপর দণ্ডায়মান কেন্দ্রস্থ কোণ বৃত্তস্থ কোণের দ্বিগুণ]
.: 2∠BAD = 2∠BED
বা, ∠BAD = ∠BED [প্রমাণিত]
সাধারণ জ্ঞান-২০
১২। নিমের প্রশ্নগুলোর সংক্ষেপে উত্তর লিখুন :
ক) MI-6 কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা?
উত্তর: যুক্তরাজ্য।
খ) প্রাচীন রাঢ় জনপদ কোথায় অবস্থিত ছিল?
উত্তর: পশ্চিম বাংলা (প্রধানত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল)।
গ) ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কোনটি?
উত্তর: ব্রাজিল।
ঘ) মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
উত্তর: সনোরা লাইন।
ঙ) বাংলাদেশের 'গিরিকন্যা' চলচ্চিত্র কোন ভাষায় নির্মিত?
উত্তর: মারমা ভাষা ।
চ) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ কত তারিখ জারি করা হয়?
উত্তর: ৩০ নভেম্বর ২০২৫।
ছ) বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ৭ মার্চ ১৯৭৩।
জ) সম্প্রতি সমাপ্ত বিপিএল ক্রিকেটে লীগে চ্যাম্পিয়ন দলের নাম কি?
উত্তর: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
ঝ) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরণে নির্মিত 'রক্তধারা' স্মৃতিস্তম্ভ কোন জেলায় নির্মিত হয়েছে?
উত্তর: চাঁদপুর।
ঞ) প্রাচীন গ্রীক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল কোন সাগরকে কেন্দ্র করে?
উত্তর: ভূমধ্যসাগর (বিশেষত এজিয়ান সাগর)।
১৩। 'বোর্ড অব পিস' গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী? 'বোর্ড অব পিস' কী জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে?
উত্তর: বোর্ড অব পিস' (Board of Peace বা BoP) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিশ্বজুড়ে শান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত হয় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এর চার্টার স্বাক্ষরিত হয়।
'বোর্ড অব পিস' এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: সংঘাত-কবলিত বা সংঘাতের হুমকিতে থাকা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্ভরযোগ্য ও আইনানুগ শাসন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সংস্থাটির সবচেয়ে তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি তদারকি করা এবং গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কাজের সমন্বয় করা। গাজায় 'ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স' (ISF) নামক একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা এবং একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রাথমিকভাবে গাজাকে কেন্দ্র করে কাজ শুরু করলেও, এর চার্টারে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও হস্তক্ষেপ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পদ ও অর্থ সংগ্রহ করা।
'বোর্ড অব পিস' গঠন জাতিসংঘ, বিশেষ করে এর নিরাপত্তা পরিষদের সমান্তরাল একটি কাঠামো তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এটি জাতিসংঘকে দুর্বল করার সম্ভাবনা নিয়ে যে উদ্বেগগুলো রয়েছে: সমালোচকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছেন, যেখানে চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর ভেটো ক্ষমতা থাকবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন যে, কেবল নিরাপত্তা পরিষদেরই বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরির ক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা থাকলেও, বোর্ড অব পিস- এর চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ভেটো ক্ষমতা থাকবে। তিনি চাইলে যেকোনো সদস্যের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবেন। এই বোর্ডে দীর্ঘমেয়াদী সদস্যপদ পেতে হলে কোনো দেশকে অন্তত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় দেশগুলোর আর্থিক সহায়তা কমে যেতে পারে এবং তহবিল এই নতুন বোর্ডের দিকে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রেজোলিউশন ২৮০৩-এর মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠনের জন্য এই বোর্ডকে সাময়িক অনুমোদন দিলেও, বোর্ডটি বর্তমানে তার ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সর্বজনীন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। জাতিসংঘে যেখানে সবার জন্য সমান আলোচনার সুযোগ থাকে, সেখানে এই বোর্ডকে একটি "পে-টু-প্লে ক্লাব" (Pay-to-play club) হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক বিশ্লেষক, যা কেবল সম্পদশালী দেশগুলোর প্রভাব বাড়াবে।
১৪। রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন-আপনার মতামত দিন।
উত্তর: রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ: দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি "জাতীয় রোহিঙ্গা কৌশল" প্রণয়ন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় ইউনিট গঠন করা জরুরি। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা স্বদেশে ফিরে স্বাবলম্বী হতে পারে। ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সহিংসতা রোধে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ওপর পড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা।
২. আঞ্চলিক পর্যায়ে পদক্ষেপ: মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আসিয়ান দেশগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোকে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরাসরি সম্পৃক্ত করা এবং মিয়ানমারকে নাগরিকত্ব সংশোধনে উদ্বুদ্ধ করা। মানবপাচার ও মাদক চোরাচালান রোধে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা।
৩. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ: মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক ত্রাণ ও সহায়তার তহবিল নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের অন্য উন্নত দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো।



0 Comments